সন্তান হবার পর এক মাসে রোগা হবার ঘোরোয়া টিপস

নতুন বাবু হবার পর অনেকেই একটু মোটা হয়ে যান, আয়নায় নিজেকে দেখে বা ছবিতে দেখে খুব বিব্রত হন, মুখ টা আরেকটু ভারি হয়ে যায়। অনেকেই চিন্তা করেন কেমন না জানি দেখাচ্ছে তাই বাবুর সাথে ছবিও তুলতে রাজি হন না।
আসলে আপনি মোটা বা পাতলা কিছু কি যায় আসে? এই যে এত দারুন একটা পরিবর্তন হল, মা হলেন, নতুন বাবু হবার পর যে উত্তেজনা বা উচ্ছ্বাস তার কোনো কিছু কি শারীরিক কোনো কিছুর চেয়ে কম?
একটু চেষ্টা করলেই , খানিকটা মনঃস্থির করলেই অল্প সময়েই এই বাড়তি স্থুলতা কমে যাবে।
তাই মাতৃত্ব উপভোগ করুন, চিন্তা বাদ দিন। অল্প কিছু নিয়ম মেনে চলুন বিশ্বাস করুন একেবারে আগের মতই শুকিয়ে যাবেন।

আমার দুইজন বেবি। প্রথন বাবুর জন্মের পর অস্বাভাবিক মোটা হয়ে গিয়েছিলাম। কি যে একটা লজ্জায় পড়ে যেতাম পেট নিয়ে!!
কিন্তু আমি ১ মাসের মাথায় ই আবার আগের স্বাস্থ্যে ফিরে গিয়েছিলাম। বিশ্বাস হচ্ছেনা?
মন দিয়ে পড়ুন আজকের এই লেখাটি।

মাইন্ড সেট ঠিক করে নিনঃ

মেদ ঝরানোর জন্য সবার আগে দরকার মাইন্ড সেট। আপনি যদি চান এক মাসের মধ্যেই টামি বা পেট কমিয়েমেদ ঝয়ে ঝরঝরা হয়ে যাবেন তবে নিজের মনে সেটা গেঁথে নিন। এবং এই মাসের টটাল কতটুকু ওজন কমাতে চান সেটা ঠিক করে নিন। ধরুন ৮-১০ পাউন্ড কমাতে চান , তাহলে সপ্তাহে ১-২ পাউন্দ কমালেই হবে। এবার প্রতিদিনের একটা রুটিন ঠিক করে নিন। এই এক সপ্তাহে কোন বেলা কি খাবেন সেট করুন। একেবারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কোন সময়ে কি কি করবেন সময় ধরে তার একটা চার্ট করে নিন। এবং এই চার্ট দেখেই কাজ করুন।

ক্যালোরি কমাতে হবেঃ

খাবার থেকে ক্যালরি কমাতে হবে, তবে একদম ই বন্ধ করে দিলে হবেনা। যেসব খাবারে ক্যালরি কম সেসব খাবার খেতে হবে। ক্যালরিও কিন্তু দরকার শরীরের জন্য। প্রতিদিন অল্প একটু ক্যালরি গ্রহন করুন, রোজ খাবার থেকে ৫০০ ক্যালরি বাদ দিন, ব্যাস তাহলেই হয়ে যাবে, আপনি খুব দ্রুতই শুকিয়ে যেতে পারবেন।
বিভিন্ন ফুড ডায়েট এপ দেখুন কিভাবে প্রতিদিন খাবার থেকে ক্যালরি বাদ দিতে হয়। প্রয়োজনে ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নিতে পারেন।

সঠিক ডায়েটঃ

এক মাসের মধ্যে ওজন কমাতে হলে একেবারে না খেয়ে থাকলে তো চল্বেনা, দরকার হেলথি ডায়েট। সঠিক ডায়েটের মাধ্যমে অনেক কমাতে পারা যায় ওয়েট। সকাল শুরু করুন গ্রীন টি দিয়ে, সারাদিন প্রচুর শাক সবজি আর , সালাদ আর ফলমূল খাবারের তালিকায় রাখুন। কোনো সমস্যা না থাকলে কিটো ডায়েট ও করতে পারেন।
তবে অবশ্যই যে ডায়েট ই করবেন সে বিষয়ে ভালো ভাবে জেনে বুঝে শুরু করবেন। সারাদিনের খাবারে হোল গ্রেইন খাবার বেশি খান। প্রোটিন, ভিটামিন , ফাইবার যুক্ত খাবার বেশি বেশি খাবেন। ভাজাভুজি বা ফাস্টফুড এই এক মাস বন্ধ রাখলেই ভালো। বরং এগুলোর বদলে লো ফ্যাট দুধ, কর্ন, ওটস, ফল, টক দই এসব খান।


এই এক্মাসে ভাজাভুজি, স্ন্যাক্স, চিপ্স, রিচফুড, কোল্ড ড্রিংক্স, এনার্জি ড্রিংক, মিষ্টি জাতীয় খাবার, এলকোহল ইত্যাদি এভোয়েড করলেই ভালো। ডার্ক চকোলেট খাওয়া যেতে পারে। খাবারের একটা সঠিক সময় ও কিন্তু দরকার। শুধু খাবার খেলেই হবেনা। এই সময় ঘুমের বা খাবারের অনেক অনিয়ম হয় মায়েদের, চেষ্টা করতে হবে সময় ঠিক রেখে খাওয়া। ঘুম থেকে উঠার ২ ঘন্টার মধ্যেই ব্রেকফাস্ট করতে হবে। দুপুর ২টার মধ্যে লাঞ্চ, রাত ১০ টার মধ্যে ডিনার।

এক্সারসাইজঃ

এক মাসের মধ্যে শুকাতে চাইছেন কিন্তু এক্সারসাইজ করবেন তা কি হয়? এই সময় আসলে ব্যায়াম করা খুব একটা সম্ভব হয় না, রেগুলার ১৫মিনিট হাঁটা,হাল্কা কিছু ফ্রী হ্যান্ড এক্সারসাইজ, ব্যাস তাতেই হবে। কেও কেও ভাবতে পারেন ১০/১৫ মিনিট হেটে আর কি ওয়েট কমানো যায়? হ্যা যায়, সকালে এই সময় মর্নিং সিকনেস এ পেয়ে বসে, তাই সকালে না পারলে দুপুরে বা রাতে খাবারের পর বেশি না জাস্ট ১০ মিনিট বা ১৫ মিনিট হাঁটুন , কিন্তু হাটতে হবে স্মার্টলি। একটু বড় পদক্ষেপ এ হাঁটুন, যারা নিচে বা খোলা পার্ক বা উঠোনে হাটার সুযোগ নেই, সমস্যা কি ছাদেই হাঁটুন। এতে অসাধারণ কাজ হয়। দারুন ফ্যাট বার্ন হয় এতে।
শুধু যে ফ্যাট বার্ন হয় তা কিন্তু নয়, এতে শরীর ও মন ও অনেক ভালো থাকে। ব্লাড শ্যুগার ও অনেক নিয়ন্ত্রণে থাকে এটাতে।যেটা সকালে হাটার থেকেও অনেক বেশি কাজ দেয়। যদিও মাত্র ১০/১৫ মিনিট হাটলে কিছুই হবেনা। তারপরেও সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মত রোজ হাঁটা শুরু করতে পারেন।

প্রচুর পানি পান করুনঃ

পানি আপনাকে এই সময় প্রচুর , মানে অনেক বেশি পরিমানে খেতেই হবে। পানি ওজন কমাতে যেমন সাহায্য করে, বাবুর ব্রেস্টফিডিং এও অনেক উপকার পাওয়া যায়। ডেইলি ঘুম থেকে উঠেই ২ গ্লাস পানি খেয়ে নিন। এতে শরীরে জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যাবে যেটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অন্যদিকে টক্সিন জমে থাকলে শরীরে মেদ ও বাড়ে।
তাই পানি পান করলে এই টক্সিন টা কমার সাথে সাথে মেদ ও কমবে এবং পানি আমাদের পেট ভরার একটা অনুভূতি দেয় । তাই শুধু খালি পেটেই না ডায়েট চার্ট মেনে খাবার খাওয়ার এক ঘন্টা বা আধ ঘন্টা পর এক গ্লাস পানি খেলে ক্ষুধা আর তেমন লাগবেনা, পেট ভরপুর ই মনে হবে। তাই শুকনা হবার এই অভিজানে পানি পান করা কিন্তু বাধ্যতামুলক।

ফাইবারকে প্রাধান্য দিনঃ

যেহেতু নতুন বাবু হবার পর পরই খুব একটা ব্যায়াম করা যাবেনা, তাই এই সময়ে খাবার কে খুব প্রাধান্য দিতেই হবে। এই সময়ের খাবারের তালিকায় প্রচুর ফাইবার যুক্ত খাবার খান। ফাইবার যুক্ত খাবার যেমন মেদ ঝরাতে সাহায্য করে তেমনি অল্পতেই পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। আর অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকতে সাহায্য ও করে এই ফাইবার যুক্ত খাবার, এর ফলে ক্ষুধাও কম পায়।

ফাইবারযুক্ত খাবারের চার্টে সকালের নাস্তায় ওটস আর সালাদ আর বিকেলের নাস্তায় খেলেন ভুট্টা।এভাবে শুধু নাস্তার সময় গুলোতে ফাইবার যুক্ত খাবার রাখতে পারেন, আর সব খাবার ই খাবেন কম লবন দিয়ে। দুপুরেও ভাত ছাড়াও এক বাটি লাউ ঝোল বা লাউ ডাল খেয়ে নিতে পারেন। এই সময়ে যত পারুন লবন খাওয়া কমিয়ে দিন। কষ্ট করে একটা মাস লবন ছাড়া কাটিয়ে দিয়েই দেখুন, কারণ লবন শরীরে পানির পরিমান বাড়িয়ে দেয় যার কারনে ওজন বেড়ে যায়।

এখানে আমি মোটামুটি অনেক নতুন মায়েদের শুকনা হবার মিশনে যারা সফল তাদের সাথে কথা বলে এবং অনেক ঘাটাঘাটি করে মোটামুটি যা জানতে পেরেছি আপনাদের জন্য তুলে ধরেছি কিভাবে এক মাসেই শুকনা হওয়া যায়।
আমি নিজেই চেষ্টা করেছি এগুলো ফলো করতে। আরো যা যা আমি করেছি তার কয়েকটি এড করছি , অনেকের সাথে নাও মিলতে পারে।

* আমি চেষ্টা করেছি বাসার খাবার ই বেশি খেতে , ফাস্টফুড বা কোল্ড ড্রিংস এভোয়েড করে বিকল্প কিছুই বাসায় করে নিতাম।

*ক্ষুধা বেশি লাগ্লে একটু পর লাউ খেতাম, সবজি খেতাম এমনি এমনি।

*আমি এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং করিয়েছি। এতে মেদ আসলেই খুব তাড়াতাড়ি ঝরে।
*প্রচুর লেবুর পানি খেয়েছি। প্রচুর মানে খুব প্রচুর। এতে তারাতাড়ি পেরেছি যা মনে হয় টামি টা ফ্ল্যাট করতে।

* অনেক সময় শুধু শুধু পানি খেতে ইচ্ছা না হলে ডাবের পানি বা শরবত খেয়েছি।

* রেগুলার প্লাংক করেছি, এতে বেশ এনার্জিও পেতাম।

এগুলো মেনে চলতে চেষ্টা করুন, বাইরের খাবার বন্ধ করুন এই এক মাস, চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন, কারণ আমার ক্ষেত্রে খুব চিন্তা করলে খাওয়ার টেন্ডেন্সি বেড়ে যায় (অনেকের নাও হতে পারে)।
ঘুমের ব্যাঘাত যাতে না ঘটে চেষ্টা করবেন, বাবু কে খাওয়াতে খাওয়াতে বা সে ঘুমালে আপ্নিও ঘুমিয়ে পুষে নিন।

আপনার এক মাসেই শুকনা হবার মিশনে আপনি সফল হবেন ই।




Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
0 Shares
Tweet
Share
Pin
Share