newborn baby care

শিশুর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সাধারন নিয়মাবলি

  1. সকালে ঘুম থেকে উঠে , মলত্যাগ করার পরে আর খাওয়ার আগে শিশুকে সব সময় সাবান দিয়ে হাত ধুতে শেখান। অনেক মায়েরা শিশুর নাস্তাকে বা শিশু যখন এটা সেটা খায় যেমন খই , মুড়ি , মোয়া , বিস্কিট, চিপ্স, ইত্যাদিকে খাবার হিসেবে গন্য করেন না। এসব খাবার খাওয়ার আগে শিশুর হাত ধোয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। এটা নিতান্তই ভুল ধারণা।
  2. শিশুরা বার বার হাত মুখে দেয়, এ কারণে যেসব শিশুর হাত মুখে দেয়ার অভ্যাস আছে, বা আঙ্গুল চোষার অভ্যাস আছেতাদের হাত পরিস্কার রাখা উচিত।
  3. শিশুদেরকে রোজ গোসল করিয়ে নতুন জামা কাপড় বা ধোঁয়া পরিস্কার পরিছন্ন জামা কাপড় পরাবেন। প্রয়োজনে দিনে ২/৩ বার গোসল করাতে পারবেন।
  4. শুশুর হাত এবং মুখ দিনে কয়েকবার ধুয়ে দিতে হবে, এতে মুখে মাছি বসবে না এবং চোখে অসুখ হবেনা।
  5. শিশুদেরকে খালি পায়ে ঘুরতে দেবেন না। স্পঞ্জের স্যান্ডেল বা কাপড়ের স্যান্ডেল বা চটি পরার অভ্যাস করান।
  6. অনেকেই সাধারনভাবে বিশ্বাস করেন যে, ছট্ট বাচ্চাদের মল তেমন বিপদজনক নয়, কিন্তু ধারণাটি মোতেই সঠিক নয়, বড় দের মলের মত ছোট বাবুদের মল ও সাথে সাথে ভালো করে পরিস্কার করে ফেলতে হবে। একটু বড় হলেই তাদের পটি ট্রেইন করান।
  7. ছোট বাচ্চাদের কখনোই খালি পায়ে অয়াশ রুমে ঢুকতে দেয়া যাবে না।
  8. শিশুদের দাঁত মাজতে শেখান।
  9. বাবুদের নখ কেটে রাখবেন সব সময়। সপ্তাহে একবার নখ ট্রিম করে দিন।
  10. শিশুদের আলাদা গামছা , তোয়ালে, গ্লাস ব্যাবহার করতে শেখান।
  11. যেসব শিশুদের অসুখ করেছে বা ছোঁয়াচে চর্ম রোগ বা উকুন রয়েছেতাদের চিকিৎসা না করা পর্যন্ত অন্যদের সাথে ঘুমাতে , একই জামা কাপড় বা গামছা, বা তোয়ালে ব্যাবহার করতে দেবন না।

শিশুদের প্রসাধনীঃ

সাবানঃ

শিশুদের জন্য কম ক্ষারযুক্ত বেবিসোপ ব্যাবহার করবেন। অন্যথায় ভাল গায়ের সাবান পাতলা করেব্যাভার করতে পারেন।ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতীত মেডিকেটেড সাবান ব্যাবহার করবেন না। ফুটানো ঠান্ডা বা ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে শিশুকে গোসল করালে গোসলের পানিতে ডেটল বা সেভ্লন ইত্যাদি মেশাবার প্রয়োজন নেই।

লোশনঃ

গোসলের পর বাচ্চাকে ভালো মানের লোশন লাগাতে পারেন। ট্যাল্কম পাওডার বা বেবি পাওডার চেষ্টা করবেন না মাখাতে।

তেলঃ

গোসলের আগে ৩মাস বা ৬ মাস বয়স পরে ইচ্ছা করলে আপনি তেল মাখাতে পারেন। তবে তা বাধ্যতামুলক না। বিশেষ করে শীতকালে গোসলের আগে ঝাঁজ বিহীন তেল তেমন অলিভওয়েল , নারিকেল তেল বা বেবি অয়েল মাখিয়ে গোসল করাতে পারেন। তবে সরিষার তেল এভোয়েড করবেন।

কাজলঃ

নবজাতক বাচ্চার ভ্রূতে কাজল লাগানো উচিত নয়, অনেক সময় এ থেকে র‍্যাশ হতে পারে। তবে ৪/৫ মাস পরে যদি ইচ্ছা করে লাগাতে পারেন, এতে কোনো উপকার ও নেও, দোষ ও নেই। শিশুর চোখের পাতার ধারে বা চোখের ভেতরে কাজল বা কৃত্রিম সুরমা লাগাবেন না,তাতে চোখের ক্ষতি হয়।

মুক্ত আলো বাতাস ও রোদঃ

পর্যাপ্ত আলো বাতাস যুক্ত কক্ষে বাচ্চাকে রাখবেন এবং কক্ষটি যেন নাতিশীতোষ্ণ থাকে। জানালা বা দরজা দিয়ে সকালের অথবা অন্তত বিকেলের রোদ টি ঘরে এসে পড়লে ভালো হয়। রুমে ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যাবস্থা থাকতে হবে। আমাদের দেশে প্রায়শঃই শিশুদের ঘরের জানালা বন্ধ রেখে আলো আধারী করে রাখা হয়। এটা শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বাচ্চাকে রুমে রেখে কখনো মশার কয়েল, ধূপ -ধুনা জ্বালিয়ে রাখবেন না বা স্প্রে করবেন না, তা যত ভালো কোম্পানী বা ব্র্যান্ডেরই হোক না কেনো। যানবাহন বা মিল-ফ্যাক্টরির ধোঁয়া এবং ধুলা থেকেও দুড়ে রাখবেন বাচ্চাদের।

বাচ্চাকে খালি গায়ে (১০-১২ মিনিট) খালি গায়ে কোমল রোদ এ রাখা ভালো। গায়ে রোদ পেলে বাচ্চার শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি হয়। যা হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে। এ সময় বাচ্চার চোখে যাতে সরাসরি রোদ না পড়ে তা লক্ষ্য রাখতে হবে।

হটাত বিকট শব্দ যেমন গাড়ির হর্ন অথবা একটানা কানের কাছে শব্দ তা রেডিও-টিভির গান বাজনাই হোক আর মিল ফ্যাক্টরীর শব্দই হোক এই ধরণের অস্বাভাবিক শব্দ শিশুর কানে শোনা এবং মানসিক বিকাশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে।

চোখের যত্নঃ

চোখ মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ । তবে এর গঠন খুব কোমল। চোখ সব সময় যত্নে রাখতে হয়। ঠিকমত যত্ন না নিলে সহজেই সংক্রমিত হয়ে পরে।

১) আঙ্গুল, শাড়ি বা অড়নার আঁচল দিয়ে বা গামছা দিয়ে বা অপরিষ্কার রুমাল/কাপড় দিয়ে কখনো শিশুর চোখ মুছবেন না। চোখ মোছার জন্য সব সময় নরম সুতি বা গেঞ্জি কাপড় অথবা তুলার ছোট বল ব্যাবহার করবেন। চোখ পরিস্কারের জন্য একবার যে কাপড় ব্যাবহার করবেন তা না ধুয়ে দ্বিতীয় বার ব্যাবহার করবেন না।

২) বাচ্চাকে গোসল করানোর সময় ভেজা কাপড় দিয়ে আসতে আসতে চোখের পাতা পরিস্কার করে দিবেন। চোখের ভিরের কোনো কিছু দিয়ে পরিস্কার করার দরকার নেই।

৩) হাত মুখ ধোবার সময় শিশুকে চোখের ভিতর পানির মৃদু ঝাপ্টা দিয়ে চোখ পরিস্কার করা শেখান। শোবার সময় এভাবে চোখ ধোয়া খুব ভালো। তাতে সারাদিনের জমা ময়লা আর ধুলো চলে যায়।

৪) বাচ্চার চোখের ভিতর , চোখের পাতার ধারে বা পাপড়ির গোড়ালি সমুহ বরাবর কাজল, সুরমা, পাউডার লাগানো উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতিত চোখে কোনো মলম বা ড্রপ দেবেন না। প্রতিবার হাত্মুখ ধোবার সময় এবং রাতে শোবার পূর্বে চোখ ধুয়ে নিতে হবে।

নাকের যত্নঃ

১) দৈনিক নাকের ভিতরটা ঝেরে মুছে সাফ করার প্রয়োজন নেই। নাকের ভিতরের ময়লা /শ্লেস্মা শক্ত হয়ে জমে গেলে সুতি কাপড়ের কোনা পেঁচিয়ে একটি পলিতা তৈরি করে নিন। সেটা অথবা কটন বাড পানিতে ভিজিয়ে ছোট শিশুদের নাক পরিস্কার করে দিতে পারেন।

অনুরূপ ভাবে নাকের ঝরতে থাকা শ্লেষ্মা মুছে দিতে পারেন। এছাড়া ড্রপার, নজাল এস্পিরেটর বা সুচ ছাড়া সিরিং দিয়ে সাবধানে নাক থেকে শ্লেষ্মা টেনে বের করে নেয়া যায়।

২) বড় শিশুরা দিনে অন্তর ৩/৪ বার হাত মুখ ধুয়ে থাকে। হাত মুখ ধোবার সময় নাক ও পরিস্কার করে নিতে হবে। নাকে শ্লেষ্মা শক্ত হয়ে গেলে শিশুরা কেবল নাক খোটায় তাতে নাকের ভিতরে ঘা হয়ে যেতে পারে। একটু পানি হাতে করে নিয়ে নাক দিয়ে টেনে নিতে হবে। এতে শ্লেষ্মা আলগা হতে সাহায্য করে। এভাবে ২/৩ বার নাকে পানি টেনে নাক পরিস্কার করতে হবে। এভাবে প্রতিবার নাক মুছে নেবে , নাক ঝারবে না।

৩) শিশুর সর্দি হলে ফ্যাসিয়াল টিস্যু দিয়ে মুছতে শেখান , হাত দিয়ে নাক মুছতে নিষেধ করুন।

৪) ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে গেলে নাকে বার বার কয়েক ফোটা করে লবন পানির ড্রপ(নরমাল স্যালাইন) দিন। তারপরেও নাক বন্ধ থাকলে ড্রপার, নেজাল এস্পিরেটর বা সুচবিহীন সিরিঞ্জ দিয়ে নাকের ভিতর থেকে শ্লেষ্মা টা টেনে বের করে নিন।

৫) অনেক জায়গায় সর্দি কাশিতে শিশুর নাকে তেল দেবার প্রথা প্রচলিত আছে। এটা অত্যন্ত বিপদজনক ব্যাবস্থা। নাকে তেল দিলে , তার এক ফোটাও যদি কোনোভাবে ফুসফুসে ঢুকে পিরেতবে, শিশু বিপন্নকারী নিউমোনিয়ায় ভুগতে পারে।

কানের যত্নঃ

কান পরিস্কার করতে সপ্তাহে ২/১ দিন কান পরিস্কার করলেই চলে । গোসলের সময় কানে পানি ঢুকে গেলে পরিস্কার কটন বাড বা একটা কাঠিতে তুলো জড়িয়ে কানের বহিছিদ্র মুছে দিবেন। কানে পানি বা খোল থাকলে তা বেরিয়ে আসবে। কানে খোল হওয়াটা স্বাভাবিক, ঘন ঘন খোল পরিস্কার করার প্রয়োজন নেই বরং ক্ষতিকর। খোল বহিঃকর্নের রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

১) শিশুদের বোতল বা ফিডারে দুধ খাওয়াবেন না। শিশুকে চিত করে শুইয়ে দুধ খাওয়াবেন না, কারণ এতে কিছুটা দুধ অনেক সময় নাক দিয়ে চলে গিয়ে মধ্যঃকর্ণে ঢুকে পাক ধরাতে পারে।

২) কখনো অপরিষ্কার কাপড় , মুরগীর বা পাখির পালক, শক্ত বা সূচালো কোনো জিনিস দিয়ে কান পরিস্কার করবেন না।

৩) অনেক স্থানে কান পরিস্কার রাখার জন্য কানে নিয়মিত তেল বা স্পিরিট ইত্যাদি ব্যাবহারের রেওয়াজ আছে। এ ব্যাবস্থা কানের জন্য ক্ষতিকর। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতীত কানে কোনো কিছু ব্যাবহার করবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
0 Shares
Tweet
Share
Pin
Share