দুধ এর দাঁত ও এর যত্ন

আপনি হয়তো ভাবছেন যে দুধ দাঁতের আর যত্ন কী? এগুলো তো পড়েই যাবে একসময়। তখনতো নতুন দাঁত উঠবেই। একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন প্লিজ,

শিশুর এখন বয়স কতো?৭-৮ বৎসর বয়স হলে এই দাঁত পড়ে গিয়ে নতুন স্থায়ী দাঁত আসবে। আর মাড়ির দাঁত পড়তে তো আরো দেরী, প্রায় ৯/১০ বছর। সে তো অ-নে-ক দেরি!

ততদিনে ব্রাশ না করে করে এবং চকলেট/জুস/কোক/চিনি খেয়ে খেয়ে এই ক্ষয় হওয়া দাঁতগুলো ব্যথা করতে পারে, মাড়িতে ইনফেকশন হতে পারে, মাড়ি থেকে রক্ত/পুঁজ বের হতে পারে। পুরো মুখগহ্বরের স্বাস্থ্যহানি হয়ে অন্যান্য অসুস্থতা সঙ্গী হতে পারে।

দাঁত ক্ষয় হয়ে মাড়ির সাথে মিশে গেলে তখন খাবার কামড়ে খেতে শিশুর খুব অসুবিধা হয়। ব্যথার যন্ত্রণা তো আছেই। সামনের দাঁতগুলো নষ্ট হলে দেখতেও ভালো দেখায় না। সে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত বোধ করে ভীষণ! আর এই সবগুলো বিষয়ই তার সাথে ঘটবে আরো দীর্ঘ ৭-৮ বা ৯-১০ বছর ধরে। এখন আপনার শিশুর বয়স ০৩ হলে এই কষ্ট ও দুর্ভোগ পোহাতে হবে আরো ৫-৭ বছর ধরে।

একটু ভেবে দেখুন, আগামী ০৫ বছর ধরে আপনার এতো আদরের সন্তান-

★ কোন খাবার কামড়ে খেতে পারবে না।

★ দিনরাত দাঁতের মাড়ির ব্যাথায় কষ্ট পাবে।

★ মাড়ি থেকে রক্ত ও পুঁজ বের হবে।

★ মুখে দুর্গন্ধ থাকবে, কারো সামনে কথা বলতে লজ্জা পাবে, স্কুলে গিয়ে সবার সাথে সহজভাবে মিশতে পারবে না।

★ শব্দের উচ্চারণ ঠিকমতো করতে পারবে না আরো অনেকগুলো বছর যেহেতু দাঁত ক্ষয় হওয়া।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মাড়ি কিন্তু নতুন করে বের হবে না, গজাবেও না। এই মাড়িতেই নতুন দাঁতের শেকড় থাকে।

এই মাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন দাঁতের স্বাস্থ্যও ভালো হয়না। পরবর্তী জীবনে যত যত্নই করুক, যত দামী টুথপেস্টই ব্যবহার করুক বা যত বড় ডাক্তারই দেখাক, ৮০% রোগীর ক্ষেত্রে এই যন্ত্রণা আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। আর এরজন্য কেবলমাত্র দায়ী শিশুর অভিভাবকের অজ্ঞতা এবং উদাসীনতা।

★★ পুরনো ক্ষয় হয়ে যাওয়া দাঁতগুলো কিন্তু একসাথে সব পড়ে যাবে না আর নতুন দাঁতও সব একসাথে উঠবে না। পুরনো ইনফেকটেড দাঁতের ফাঁকে ফাঁকেই উঠবে। পুরনো দাঁতে ইনফেকশন থাকলে নতুন দাঁতও ইনফেকটেড হওয়া থেকে বাদ পড়বে না। তাই সাবধান হওয়া ব্যতীত কোন অপশন নেই।

★★ শিশু যখন খাবার খেতে চায় না তখন কিন্তু আমরা জোর করে খাওয়াতে কোন কার্পণ্য করিনা। শিশু খেতে না চাইলে দিনের পর দিন না খাইয়ে রেখে দেওয়া মা একজনও নেই কিন্তু। অথচ দাঁত ব্রাশ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় কী অবহেলায় আমরা অবজ্ঞা করে যাই!দাঁতের চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল চিকিৎসা। আর সারাজীবনের ভোগান্তি তো ফ্রি।

★★ দুধ দাঁতের যত্নের অনেক নিয়ম কানুন আছে, শিশু জন্মের সাথে সাথেই এগুলোর চর্চা শুরু করতে হয়। এই দাঁত এত মূল্যহীন হলে নিশ্চয়ই এর যত্ন বা চিকিৎসার এত পদ্ধতি আবিস্কার-ই হতো না!

★★★ যাদের শিশুর দাঁত ইতোমধ্যে ক্ষয় হওয়া শুরু হয়েছে বা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিচ্ছে তাদের জন্য– একজন রেজিস্টার্ড (বিডিএস) ডেন্টাল সার্জনকে দেখিয়ে প্রয়োজনমত চিকিৎসা করান। আর বাকি দাঁতগুলোর প্রতি এখনই যত্নবান হন, প্লিজ!- আপনার চেষ্টা হবে ক্ষয় আর বাড়তে না দেওয়া, সাথে অন্য দাঁতগুলো সুস্থ রাখা।

– দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করাবেন,
খাবার খাওয়ার পর কুলি করানোর অভ্যাস করাবেন,

আঠালো ও মিষ্টি খাবার (চকলেট, চিপস, কেক, বিস্কুট ইত্যাদি) যথাসম্ভব কম খাওয়াবেন,

দাঁতে খাবার যাতে আটকে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন

।মনে রাখবেন আজকের অবহেলা সারাজীবনের অর্থ ব্যয়, হয়রানি ও যন্ত্রণার কারণ হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
0 Shares
Tweet
Share
Pin
Share