Hair Color

কালার করা রঙিন চুলের যত্ন

হেয়ার কালার তো সব সময় ই বেশ ট্রেন্ডি। চিরাচরিত রঙে সামান্য খানিক্টা রঙ বদলেই পুরো লুক টাই চেঞ্জ হয়ে যায়।
যাকে বলে কমপ্লিট মেকভার। আর চোখ থেকে শুরু করে পায়ের নখ পর্যন্ত সবই যদি রাঙ্গিয়ে তোলা যায় সেক্ষেত্রে চুল ই বা বাদ যায় কেনো, অনেক ক্ষেত্রে আবার অকালপক্কতা থেকে মুক্তি পেতেও হেয়ার কালারের শরনাপন্ন হতে হয়।কিন্তু এখানে একটু সমস্যা হয় যদিনা ঠিকঠাক যত্ন না নিতে পারেন। আজকে আমি আলোচনা করব চুলের কালার করা নিয়ে এবং সঠিক কালার বাছাই, এবং কালার দীর্ঘস্থায়ী করতে কী কী যত্ন নেবেন, সব টিপস রইলো আপনাদের জন্য।

কালার করার আগেঃ

অনেকেই হয়তো জানেন আবার অনেকেই জানেন না যে চুল কালার করার আগেই বিশেষ কিছু যত্ন নিতে হয়। চুলে রঙ করা মানেই হচ্ছে আমাদের চুলে নানান ধরণের ক্যামিকেলের ব্যাবহার। তাই ঠিকঠাক ভাবে যত্ন না নিলে চুলের বারোটা বেজে যাবে। চুলে কালার করার পর যে যে ক্ষতি গুলো হতে পারে সেগুলো জেনে ক্ষতি ঠেকানোর জন্য আগে থেকেই কিছু যত্ন নিতে হবে। এতে চুলের কালার যেমন টেকসই বা দীর্ঘস্থায়ী হবে তেমনি চুল অ ভালো থাকবে।



* প্রথমেই খেয়াল রাখুন যাতে আপনার চুলের আর্দ্রতা ঠিক থাকে। চুল কালার করার অন্তত এক মাস আগে থেকে নিয়মিত চুলে হেয়ার অয়েল ম্যাসাজ করুন, একবার সপ্তাহে একবার নারিশিং হেয়ার মাস্ক ব্যাবহার করুন।

  • এই সময়ে হেয়ার ড্রায়ার বা এরকম হিটিং টুলস যতটা পারুন এড়িয়ে চলুন। যদি কালার আগে চুলে ব্লিচ করতে হয় তবে ব্লিচ করবার আগের দিন রাতে নারিকেল তেল ম্যাসাজ করুন। এতেচুলের ক্ষতি কম হবে।

সঠিক কালার বেঁছে নিনঃ

চুলের কালার করার আগে ভালো মানের হেলার কালার এবং ব্লিচ বেঁছে নিন। এতে চুলের ক্ষতি এড়ানো যাবে। যাতের চুল পাতলা তারা এমন কালার বাছাই করুন যেটাতে ব্লিচ ব্যাবহার করা না লাগে। আরেকটা ব্যাপার মনে রাখার চেষ্টা করুন লাল , গোলাপি এই ধরণের সবচেয়ে কম স্থায়ী হয়। অর্থাৎ এই ধরণের রঙ করার ক্ষেত্রে কিছুদিন পর পর টাচ আপ এর দরকার হয় এবং এই ধরণের কালার গুলো দীর্ঘস্থায়ী করতে যত্ন অ বেশি করতে হয়।

তাই পকেটের টাকা বাচাতে এই ধরণের রঙ বাছাই না করাই ভালো। এখন মার্কেট এ অ্যামোনিয়াবিহীন কালার খুব অহরহ পাওয়া যায়, তাই চেষ্টা করুন এই ধরণের কালার বেঁছে নিতে।

কালার করার সময়ঃ

  • আমরা অনেকেই বাসায় বসেই হেয়ার কালার করি। যদি একেবারে নতুন অবস্থায় প্রথমবার চুল কালার করতে চান তবে ভালো একটা পার্লারে গিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন বিশেষত বালায়াজ বা অম্ব্রে কালার করতে চাইলে।
  • বালায়াজ বা অম্ব্রে বাড়িতে একা একা করার রিস্ক না নেয়াই ভালো, যেকোনো কালার বাসায় করার আগে একটা প্যাচ টেস্ট করে নেবেন।
  • কালারের প্যাকেট এ দেয়া ইন্সট্রাকশন মেনে চলবেন একেব্রে বরাবর। কালার বা ব্লিচ কতখন চুলে লাগিয়ে রাখার নির্দেশনা আছে পরে দেখুন, ঠিক ততক্ষন ই রাখুন।


কালার করার পরেঃ

চুলে রঙ করার আগে বা রঙ করার সময় যতটুকু যত্ন বা নির্দেশনা মেনে চলতে হয় সেটুকু আসলে কম ই, আসল যত্ন নিতে হয় চুলে রঙ করার পর পর। কালার দীর্ঘস্থায়ী করতে বিশেষ কিছু যত্নের দরকার হয়, আবার বেশ কিছু সাবধানতাও নেয়া দরকার হয় যাতে চুল রুক্ষ হয়ে না পরে।

১) চুল রঙ করার পর অন্তত ২/৩ দিন চুলে শ্যাম্পু লাগাবেন না। এতে চুলে রঙ টা সেট হবে ভালো।

২) যেদিন শ্যাম্পু করবেন তার আগের দিন চুলে ভালো করে তেল ম্যাসাজ করুন।

৩) চুলে যখনই কোনো কালার বা ক্যামিকেল ইউজ করবেন চেষ্টা করবেন চুল টা সামান্য ট্রীম করে নিতে। কালার করার পরে চুলের যে সামান্য ড্যামেজ বা ক্ষতি হবার চান্স থেকেই যায় তা ট্রীম করাতে খানিকটা কমবে ।

৪) নতুন রঙ করার পর সেটা যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং যাতে শাইনি ভাবটাও থাকে সেজন্য চেষ্টা করবেন ভালো ব্রান্ডের কালার প্রোটেক্টিং শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যাবহার করতে।

যেকোনো শ্যাম্পুই সালফেট মুক্ত হলে ভালো, তাহলে সেই শ্যাম্পু চুল কে রুক্ষ বা অতিরিক্ত শুষ্ক করে দেয়না।

৫) মনে রাখবেন চুলে যত বেশি শ্যাম্পু করবেন চুলের রঙ ত হাল্কা হতে থাকবে, তাই চেষ্টা করুন আগের চেয়ে কম শ্যাম্পু করতে। এতে চুলের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত ভাবটাও বজায় থাকবে এবং চুলের কালার টাও ভালো থাকবে।

৬) গরম পানি দিয়ে গোসল করার অভ্যাস থাকলে চেষ্টা করবেন মাথায় না দিতে কারণ গরম পানি চুলের কিউটিকল উন্মুক্ত করে দেয়, চুলকে রুক্ষ করে দেয়, চুলের আর্দ্রতা কমে যায়, চুল বেশি নির্জীব হয়ে পরে। চেষ্টা করুন ঠান্ডা পানিতে চুল ধুতে। ঠান্ডা পানিতে চুল ধুতে না পারলেও চেষ্টা করুন যাতে ইন্তত পানিটা ঈষদুষ্ণ হয়।

৭) যদি ঘন ঘন চুল ধোয়ার দরকার পরে তবে চেষ্টা করবেন ড্রাই শ্যাম্পু ব্যাবহার করতে।

৮) লিভ ইন কন্ডিশনারের সিলিকন থাকে তাইএটি চুলের রক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। এতে রোদ থেকে চুলের ক্ষতির সম্ভাবনা কমে এবং চুলের রুক্ষতাও হ্রাস করে। তবে লিভ ইন কন্ডিশনার লাগিয়ে অবশ্যই চুল আঁচড়ে নিবেন।

৯) চুলে রঙ করার পর সবচেয়ে কমন সমস্যা হল চুল রুক্ষ হয়ে যায় আর অতিরিক্ত শুশক হয়ে নির্জীব হয়ে যায়। তাই এর সমাধান হল কালার করার পর চুলে কন্ডিশনিং মাস্ক দিবেন। অ্যাভোকাড, কলা, মধু, টকদই , মেয়োনেজ,ভিটামিন -ই অয়েল, অ্যালোভেরা জেল ইত্যাদি উপাদান চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই উপাদান গুলো মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন।

  • অর্ধেক অ্যাভোকাডো, ১টি পাকা কলা, আর এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে সপ্তাহে একবার চুলে লাগাতে পারেন। এই মাস্ক টি এক ঘন্টা রেখে সালফেট্মুক্ত কোণ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিবেন। এই প্যাক্টি চুলের কন্ডিশনিং করবে, চুলের রুক্ষতা কমাবে এবং চুল বেশ পুষ্টিও পাবে।

১০) রঙ করা চুলের পুষ্টির জন্য প্রোটিন মাস্ক খুব দরকার। কারণ চুল রঙ করলে চুলের কেরাটিন নামক প্রোটিন অ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আজকার শপিং মল গুলোতে প্রচুর প্রোটিন মাস্ক পাওয়া যায়, আবার আপনি চাইলে বাড়িতে নিজেই প্রটিন মাস্ক বানিয়ে নিতে পারেন।

  • ১টি ডিম, এবং ২ টেবিল চামচ মেয়োনেজ এক সঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। চুলের ডগায় বেশি করে লাগান। চুলে শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন, পরে সালফেট মুক্ত যেকোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

কিছু টিপসঃ

** হেয়ার ড্রায়ার ব্যাবহার না করলেই ভালো। একান্তই খুব দরকার হলে লো হিটে দিয়ে দূর থেকে ড্রায়ার ব্যাবহার করুন।

** সুইমিং পুল বা ওয়াটার পার্কে গেলে পানি থেকে সাবধান থাকুন ,কারণ এই পানিতে ক্লোরিনের পরিমান এতই বেশি থাকে যে এটা চুলের কালার ফেড করে দেয়। এক্ষেত্রে লিভ ইন কন্ডিশনার ব্যাবহার করতে পারেন।

** চিল কালার করার পর চুলে টাচ আপ এর দরকার পরে কিছুদিন পর পর। তবে চেষ্টা করবেন খুব ঘন ঘন টাচ আপ না দিতে। দুটো টাচ আপ এর মধ্যবর্তী সময়ের গ্যাপ অন্তত ৩ সপ্তাহ রাখার চেষ্টা করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top
0 Shares
Tweet
Share
Pin
Share